একাত্তরের উত্তাল দিন, পরাধীনতার গ্লানি,
চারিদিকে শুধু হাহাকার আর অসীম রক্তক্ষরণ জানি।
মুক্তির নেশায় বুঁদ হয়ে ওঠে বাংলার প্রতিটি প্রাণ,
শত্রুর বিরুদ্ধে জ্বলে ওঠে দ্রোহের মশাল, বিজয়ের জয়গান।
পঁচিশে মার্চে শুরু হলো সেই কালো রাতের যাত্রা,
লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে লিখা হলো স্বাধীনতার বার্তা।
মা-বোনের ইজ্জত লুটেছে হায়েনারা নির্বিচার,
তবুও হার মানেনি বাংলার দামাল, করে গেছে প্রতিরোধ আর বারবার।
কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ সবাই ছুটেছে রণাঙ্গনে,
বুলেট আর গ্রেনেড হাতে, অসীম সাহস মনে।
পেছনে ফেলে এসেছে প্রিয়জন, মা-বাবা আর ঘর,
দেশের তরে জীবন দিয়েছে, ঘুচিয়ে সকল ডর।
নয়টি মাস রক্তগঙ্গা, নদীর জলে ভাসে লাল,
প্রতিটি গ্রামে শহীদের লাশ, বেদনা আর কালো দাল।
তবুও থামেনি সে পথচলা, মুক্তির অগ্নিশিখা,
বিজয়ের স্বপ্নে বিভোর, নতুন এক দিনের লেখা।
ডিসেম্বরের ষোলো তারিখ, এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ,
সূর্য উঠলো নতুন রূপে, বাজলো বিজয়ের রণ।
ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মা, হাসলো সেদিন স্বর্গে,
তাদের তাজা রক্তে রাঙানো আজ আমাদের এই অর্ঘ্য।
লাল সবুজের পতাকা ওড়ে আজ বাংলার আকাশে,
স্বাধীনতার গান বাজে, প্রতিটি ভোরের বাতাসে।
স্মরণ করি সেই বীরদের, যাদের অমর আত্মদান,
তাদেরই ত্যাগের ফল এই বিজয়, এই জাতির সম্মান।
যতদিন রবে পদ্মা-মেঘনা, যমুনা বহমান,
ততদিন রবে এই বিজয়ের গান, অমর রবে তাদের নাম।
রক্তে কেনা এই স্বাধীনতা, রাখিব সযতনে,
ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন গর্ব করে এই দেশের সনে।
0 Comments
লেখাটি আপনার কেমন লেগেছে অনুগ্রহ করে কমেন্ট করে জানাবেন।
আমাদের ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপনিও আপনার জানা বা দেখা যে কোন ওইতিহাসিক-ভ্রমন স্থান সম্পর্কে অথবা আপনার লেখা কবিতা পাঠান আর আমাদের গান ও কবিতা ঘরের সদস্য হয়ে যান। ধন্যবাদ- all-banglakobita.com (ক্লিক করুন -আপনার লেখা)